স্বাস্থ্য বিমার আওতায় চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্য কর্মীরা, দেখে নিন যাবতীয় তথ্য

স্বাস্থ্য বিমার আওতায় চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্য কর্মীরা, দেখে নিন যাবতীয় তথ্য

‘যুদ্ধক্ষেত্র’-এ লড়ছেন তাঁরা। নিজেদের জীবন-পরিবারের পরোয়া না করেই তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সেজন্য সেই চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা করেছে কেন্দ্র

‘প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ যোজনা’-র আওতায় সেই স্বাস্থ্যবিমার সময়সীমা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। জেনে নিন সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য –

কী ধরনের মৃত্যু এই বিমার আওতায় আসবে?

১) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু
২) করোনা সংক্রান্ত কাজের সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।

কারা এই প্রকল্পের অধীনে থাকবেন?

১) স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী-সহ যে জনস্বাস্থ্য কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের চিকিৎসা ও দেখভালের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং করোনার মাধ্যমে যাঁদের প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়ছেন।

২০ বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী এবং কেন্দ্র/রাজ্যে/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল/ এইমস ও আইএনআই/কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত/স্বেচ্ছাসেবক/স্থানীয় পুরসভা/চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক মজুরি/ অ্যাড-হোক/বাইরে থেকে আনা (আউটসোর্সড) কর্মীরাও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন।

এই প্রকল্পের আওতায় স্বেচ্ছাসেবক কারা?

যাঁরা করোনা আক্রান্তদের দেখভাল ও প্রত্যক্ষভাবে তাঁদের সংস্পর্শে আসার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা নিযুক্ত হন, তাঁরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক।

ব্যক্তিগত ব্যক্তি’ কারা?

কোনও এজেন্সির মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা সংস্থা দ্বারা যে ব্যক্তিরা নিযুক্ত হন এবং যাঁরা করোনা আক্রান্তদের দেখভালের কাজে রয়েছেন বা তাঁদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংস্পর্শে আসছেন, তাঁরাই হলেন ব্যক্তিগত ব্যক্তি। (সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে যে কোনও সংস্থা নিযুক্ত করেছে, তার পরিষেবা সংক্রান্ত প্রমাণ লাগবে।)

কখন বিমার পলিসি শুরু হয় ও শেষ হয়?

পলিসির সময়সীমা ৯০ দিন। যা গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য কর্মীদের কি বয়সসীমা রয়েছে?

না, কোনও বয়সসীমা নেই।

প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে নথিভুক্ত (Individual enrolment) হতে হবে?

না। তার প্রয়োজন নেই।

এই প্রকল্পের আওতায় আসার জন্য কাউকে কি ব্যক্তিগতভাবে প্রিমিয়াম দিতে হবে?

না, দিতে হবে না। প্রিমিয়ামের পুরো অর্থটাই দেবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক।

বিমাকৃত ব্যক্তিরা কী সুবিধা পাবেন?

বিমাকৃত ব্যক্তির দাবিদারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

সুবিধা পাওয়ার জন্য কি করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক?

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ল্যাবের রিপোর্ট লাগবে। তবে করোনা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকার সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে রিপোর্টের প্রয়োজন নেই।

চিকিৎসা বা কোয়ারেন্টাইন থাকার সময় যে খরচ হবে, তা কি বিমার আওতাভুক্ত?

চিকিৎসা বা কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত কোনও খরচ বিমার আওতায় পড়বে না।

কোনও ব্যক্তির যদি পৃথকভাবে কোনও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনাজনিত পলিসি বা জীবন বিমা পলিসি থাকে, তাহলে এই (কেন্দ্রের) বিমার উপর কোনও প্রভাব ফেলবে?

অন্য কোনও পলিসির সঙ্গে এটির যোগ নেই। কেন্দ্রের এই স্বাস্থ্য বিমার আলাদাভাবে পাওয়া যাবে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কী কী নথি লাগবে?

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে –

১) নমিনি/দাবিদারের ফিলআপ ও স্বাক্ষর করা ক্লেম ফর্ম।
২) মৃতের পরিচয়পত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৩) দাবিদারের পরিচয়পত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৪) মৃত ও দাবিদারের সম্পর্কের প্রমাণপত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৫) করোনা রিপোর্ট (অরিজিনাল বা সার্টিফায়েড কপি)।
৬) যে হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, সেই হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু বিবরণ (হাসপাতালে মৃত্যু হলে) (সার্টিফায়েড কপি)।
৭) ডেথ সার্টিফিকেট (অরিজিনাল)।
৮) যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা সংস্থা বা অফিসে ওই ব্য়ক্তি কর্মরত ছিলেন, তাদের তরফে দেওয়া শংসাপত্র। যেখানে বলা থাকবে ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্তদের দেখভালে নিযুক্ত ছিলেন বা করোনা আক্রান্তের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এসেছেন। গোষ্ঠী স্বাস্থ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই সার্টিফিকেট দেবেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্তা। ওই মৃত আশাকর্মী যে করোনা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তা উল্লেখ করতে হবে।

করোনা সংক্রান্ত কাজের সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে –

১) নমিনি/দাবিদারের ফিলআপ ও স্বাক্ষর করা ক্লেম ফর্ম।
২) মৃতের পরিচয়পত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৩) দাবিদারের পরিচয়পত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৪) মৃত ও দাবিদারের সম্পর্কের প্রমাণপত্র (সার্টিফায়েড কপি)।
৫) যে হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, সেই হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু বিবরণ (হাসপাতালে মৃত্যু হলে) (সার্টিফায়েড কপি)।
৬) ডেথ সার্টিফিকেট (অরিজিনাল)।
৭) ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (সার্টিফায়েড কপি)।
৮) ক্যানসেলড চেক (কাম্য) (অরিজিনাল)।
৯) এফআইআর (সার্টিফায়েড কপি)।
১০) যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা সংস্থা বা অফিসে ওই ব্য়ক্তি কর্মরত ছিলেন, তাদের তরফে দেওয়া শংসাপত্র। যেখানে বলা থাকবে করোনা সংক্রান্ত কাজের সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে।

বিমার টাকার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে?

বিমাকৃত ব্যক্তি যে সংস্থা বা বিভাগে কাজ করতেন, সেখানে জানাতে হবে। বিমা কোম্পানিকে মেল করতে হবে। মেল আইডি হল – [email protected]

কীভাবে ক্লেম জমা দিতে হবে?

১) দাবিদারকে ক্লেম ফর্ম পূরণ করতে হবে। তারপর উল্লিখিত নথি-সহ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা সংস্থা বা অফিসে জমা দিতে হবে, যেখানে মৃত কর্মরত ছিলেন।

২) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় কাজের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে তা পাঠিয়ে দেবে।

৩) ছাড়পত্রের জন্য ক্লেমটি বিমা সংস্থায় জমা দেবে সেই কর্তৃপক্ষ।
Document PDF

Leave a Reply